30 October 2020

ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনে ভোট আজ

  • চ্যানেল১৯.নিউজ
  • আপডেট: Saturday, October 17, 2020
  • 16 বার

ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ শনিবার। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই আসনে বিরতিহীনভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। সেজন্য ভোটকেন্দ্রে মালামাল পাঠানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এরই মধ্যে ভোটের মাঠের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপির দুই প্রার্থী। তবে তাঁরা দুজনই শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে ওই দুই আসনের আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীই পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন, বিএনপি ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ও ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কারণ, তাঁরা ভোটের মাঠে ততটা সক্রিয় নন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুই আসনের ভোটেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-৫ আসনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়নের কথা জানিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। ভোটকে কেন্দ্র করে মধ্যরাত থেকে গণপরিবহনে সীমিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি।

ভোট নিয়ে ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমি ভোটের মাঠে আছি এবং থাকব। শেষ পর্যন্ত আমি দেখতে চাই ইসি এই নির্বাচনে কী পরিবেশ তৈরি করে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দৌরাত্ম্য কতটুকু সেটাও দেখতে চাই। আমি এ পর্যন্ত ইসিতে অনেক অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু তারা তাদের ভূমিকা ঠিকমতো পালন করেনি। ভোটের পরিবেশ কেমন হবে তা তো এখনি বলতে পারছি না। কিন্তু আমার ভোটাররা মাঠে থাকবে। তাদের ভোটাধিকার তারা প্রয়োগ করবে। মোদ্দাকথা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ ছাড়বো না। ভোট সুষ্ঠু হলে আমিই জিতব।’

তবে ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. কাজী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীর কোনো লিফলেট-ব্যানার ও ফেস্টুন আমার চোখে পড়েনি। এমনকি তিনি ভোটারদের কাছে ভোটের স্লিপও পর্যন্ত প্রার্থী পৌঁছে দেননি। তিনি শুধু অভিযোগ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আমার সন্দেহটা ঠিক এখানেই। তিনি হয়তো ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন কিছু ঘটাবেন যা দ্বারা দলটি রাজনৈতিক ফয়দা লোটার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমি চাই, ভোট সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হোক। আমি এখন পর্যন্ত যে সমর্থন পেয়েছি, তাতে পাশের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’

এদিকে নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে। প্রচারের শুরুর পর থেকেই বিএনপির প্রার্থী তাঁর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে বিএনপির কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি, মিথ্যা মামলা দেওয়াসহ বিস্তর অভিযোগ করেছেন। অর্ধশতাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগকে মিথ্যাচার দাবি করে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল)।

ধানের শীষের প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে এবং নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ভোটের অয়োজন করে তাহলে ভোট বিপ্লব হবে। আমি ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থাকব। এই আসনের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষের বিকল্প নেই। গত ১২ বছর এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল) বলেন, ‘উন্নয়নের জোয়ার অব্যাহত রাখতে আমি রাণীনগর ও আত্রাইবাসীর কাছে ভোট চাই। ভোটারদের যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানান ধরনের অভিযোগ করলেও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে এখানে নৌকা জেতানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হলে এই এলাকা আবারও সন্ত্রাসের জনপথে পরিণত হবে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘দুই আসনের উপনির্বাচনের নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। এই পরিবেশ শনিবারও থাকবে বলে আমার মনে হয়। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। সব দিক বিবেচনা করে ঢাকা-৫ আসনে অধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।’

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের দিন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে দুই আসনেই। যেকোনো সহিংসতা এড়াতে তারা কাজ করবে। এ ছাড়া কোনো কেন্দ্রে ঝামেলা দেখলে আমরা ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেব। সো, লেটস সি।’

ঢাকা-৫ আসনের ভোটতথ্য

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে মারা যাওয়ায় শূন্য হয় ঢাকা-৫ আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর, গণফ্রন্টের এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৭১ হাজার ১২৯ জন; যার মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৬৪ জন ও নারী দুই লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ জন। এই আসনে ১৮৭ কেন্দ্রের ৮৬৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

নওগাঁ-৬ আসনের ভোটতথ্য

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে গত ২৭ জুলাই নওগাঁ-৬ আসন শূন্য হয়। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট তিনজন। তাঁরা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ার হোসেন (হেলাল), বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. খন্দকার ইন্তেখাব আলম।

এ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ছয় হাজার ৭২৫ জন; যার মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৫৩ হাজার ৭৫৮ জন ও নারী এক লাখ ৫২ হাজার ৯৬৭ জন। এই আসনে ১০৪ কেন্দ্রের ৭২১টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

All Right Reserved by © 2017-2020 | Privacy Policy