30 October 2020

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাড়লে পূর্ণতা পাবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার

  • চ্যানেল১৯.নিউজ
  • আপডেট: Saturday, October 17, 2020
  • 45 বার

গত কয়েক মাস ধরেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখন বিশ্বের মধ্যে সব থেকে ভালো পারফরমেন্স করছে। আর এটি হয়েছে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কারণে। এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশিদের নিট বিক্রির পরিমাণ বেশি সত্ত্বেও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ দিয়ে এই বাজারে টানা কয়েকমাস উত্থান হয়েছে। তবে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারকে আরও ভালো করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ‘বাজার সঠিক পথেই আগাচ্ছে। তবে এই বাজার তখনই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, যখন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বেশি হবে। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আসতে দিতে হবে। তাহলে শেয়ার বেচে বেড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকবে না। এ জন্য অবাস্তব কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বাজারকে আরও ভালো করতে চাইলে বা বাজারকে স্থায়ীভাবে ভালো রাখতে চাইলে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে শক্তিশালী করতে হবে। বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করতে হবে। বাজারে স্বচ্ছতা, জবাদিহিতা নিশ্চিত করতে চাইলে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে করপোরেট গর্ভনেন্স বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক বসাতে হবে।’

এদিকে বাজারে সুশাসনের পাশাপাশি নানা ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগ ক্ষমতা বাড়াতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবিকে ছাড় দিয়েছে বিএসইসি। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পেলো ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি। এই অনুমতির মাধ্যমে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত আইসিবিকে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর সুযোগ করে দিলো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিবিকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে ধারণকৃত শেয়ারের ‘পুনঃমূল্যায়নজনিত অনাদায়ী ক্ষতির বিপরীতে রক্ষিতব্য প্রভিশন সংরক্ষণের ঐচ্ছিক সুবিধা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর ফলে আইসিবি ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব যোগ না করে, তাদের মুনাফা বাড়িয়ে দেখাতে পারবে। এর আগে মার্চেন্ট ব্যাংক, স্টক ব্রোকার ও ডিলারদেরও একই ধরনের সুযোগ দিয়েছিল বিএসইসি।

এদিকে দরপতনের মধ্যদিয়ে আরও একটি সপ্তাহ পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। প্রধান মূল্য সূচকের পতন হলেও গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর অপর দুই সূচকের সামান্য উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ১৭ পয়েন্ট। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৬৮টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬২টির। আর ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৯২০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২৪৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৩৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল চার হাজার ৬০৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে এক হাজার ২৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর মধ্যমে টানা দুই সপ্তাহের পতনে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল তিন লাখ ৯৯ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে এক হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

আগের সপ্তাহে বাজার মূলধন কমে তিন হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এই হিসাবে টানা দুই সপ্তাহের পতনে বাজার মূলধন কমেছে চার হাজার ৮৪৪ কোটি টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৪৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৭৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুই সপ্তাহের টানা পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ১২৩ পয়েন্ট।

All Right Reserved by © 2017-2020 | Privacy Policy