03 December 2020

ভয়াবহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত!

  • চ্যানেল১৯.নিউজ
  • আপডেট: Wednesday, November 11, 2020
  • 53 বার

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও ব্যাংক খাত সংকটে পড়তে যাচ্ছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকার প্রায় ১৯ ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এই প্যাকেজগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের জন্য মূলধন যোগান দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে এই সংকটের মধ্যে ঋণের কিস্তি না দিলে সেই ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না এই মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর এই সুযোগটি গ্রহণ করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে ঋণ প্রবাহ বাড়লেও কিস্তি আদায় হচ্ছে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কিস্তি আদায় কমেছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ বাড়লেও আদায় কমেছে। এতে ব্যাংক খাত গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জানা গেছে, করোনার কারণে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে কোন গ্রাহক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সেই ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। করোনার প্রকোপ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গত ১৫ জুন আরও তিন মাস বৃদ্ধি করে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। এরপর সম্প্রতি সেই সময় আরও তিন মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি না দিলেও চলবে। কিস্তি না দিলে কেউ ঋণ খেলাপি হবে না। আবার এই সময়ে ঋণের ওপর কোন ধরনের দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত ফি আরোপও করা যাবে না। তবে যদি কেউ ঋণ শোধ করে নিয়মিত গ্রাহক হন, তাকে খেলাপি গ্রাহকের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এতে কিছু অসাধু গ্রাহক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছে না। এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘সরকার উদারতা দেখিয়ে কিস্তি না দিলেও খেলাপি করা যাবে না এই মর্মে নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু এই যেমন প্রকৃত ভুক্তভোগীরা গ্রহণ করছে। তেমনি গ্রহণ করছে অসাধু ব্যবসায়ীরাও। এসব গ্রাহককে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি। বলছি, আপনি এখন দিলেও দিতে হবে, পরে দিলেও দিতে হবে, তাহলে এখন দিচ্ছেন না কেন? এটাও বলছি, আপনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে ১০ শতাংশ রিবেট পাবেন। কেউ আমাদের কথা শুনে কিস্তি দিচ্ছে। কেউ দিচ্ছে না। করোনার মধ্যে কিস্তি আদায় হচ্ছে মাত্র ৩০ শতাংশের মতো।’

All Right Reserved by © 2017-2020 | Privacy Policy